মাস্টারমাইন্ড ০৪
কাহিনীর মূল প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহপর্বটির শুরুতেই দেখা যায় একটি বড় কর্পোরেট ডিলকে ঘিরে ঠান্ডা যুদ্ধ। জারিফ নামের চতুর অফিসার কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। সে পুরনো ও অভিজ্ঞ কর্মচারীদের কোণঠাসা করে অফিস থেকে বের করে দিচ্ছে এবং কাঁচামালের মানে নয়ছয় করে বাজেট বাড়িয়ে নিজের পকেট ভারি করার পরিকল্পনা আঁটছে।অন্যদিকে অফিসের সাধারণ পিয়ন শান্তকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। অফিসের এক কর্মীর গায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে চা পড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জারিফ পরিস্থিতিকে নোংরা রূপ দেয় এবং শান্তর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তোলে। অফিসের মালিকের মেয়ে (সামিহা আক্তার) জারিফের মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত হয়ে শান্তর কোনো সাফাই না শুনেই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে এবং অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। শান্ত যাওয়ার আগে সতর্ক করে দিয়ে যায় যে জারিফ আসলে তাদের ভালোবাসে না, বরং তাদের সর্বস্বান্ত করার গভীর চক্রান্ত করছে।এদিকে অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান সাহেব এতদিনের বিশ্বস্ত কর্মীদের হঠাৎ বাদ দেওয়া এবং অতিরিক্ত লাভের লোভ দেখানো নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন। তবে মেয়ের অন্ধ বিশ্বাস ও জারিফের কৌশলী মিষ্টি কথায় শেষ পর্যন্ত চুক্তির ফাইলে সই হয়ে যায়। কিন্তু গল্পের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে শান্তর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতা ও প্রভাবের ইঙ্গিত পুরো দৃশ্যপটকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।অভিনয় ও নির্মাণশৈলীনাটকটিতে রাফসান ইমতিয়াজ শান্তর শান্ত অথচ দৃঢ় অভিব্যক্তি দর্শকদের নজর কাড়ে। সাদাসিধে পিয়নের রূপ থেকে তার অদৃশ্য প্রভাবশালী সত্তার রূপান্তর অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। খল ও ধূর্ত অফিসারের চরিত্রে জাকি আহমেদ জারিফের অভিব্যক্তি ছিল দারুণ বাস্তবসম্মত। সামিহা আক্তারের সংবেদনশীল কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তে পরিচালিত মেয়ের চরিত্রটিও প্রশংসনীয়। পরিমিত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং অফিস পরিবেশের চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি নাটকটিকে বেশ উপভোগ্য করে তুলেছে।সারসংক্ষেপ‘মাস্টারমাইন্ড ০৪’ নাটকটি দেখায় কীভাবে চাটুকারিতা ও অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটে। পর্বের শেষভাগে তৈরি হওয়া রহস্য দর্শকদের পরবর্তী পর্বের জন্য দারুণ কৌতূহলী করে রাখে। সাইলেন্ট রিভেঞ্জ ও সাসপেন্স ঘরানার নাটক যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি পর্ব।
সম্পূর্ণ পড়ুন